বাংলাদেশ পরিচিতি

লেকচার-১ বাংলাদেশ পরিচিতি

 বিষুব রেখা/ নিরক্ষরেখা: পৃথিবীকে উত্তর-দক্ষিণে সমান দুভাগে ভাগ করে পূর্ব পশ্চিম বরাবর যে বৃত্তাকার রেখা কল্পনা করা হয় তাকে বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখা বলে।
নিরক্ষরেখা বরাবর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়।
 অক্ষরেখা: বিষুবরেখার উত্তরে বা দক্ষিণে, বিষুবরেখার সমান্তরাল পূর্ব-পশ্চিম বরাবর যে বৃত্তাকার রেখা কল্পনা করা হয় তাকে অক্ষরেখা বলে।
 অক্ষাংশ: নিরক্ষরেখার উত্তরে বা দক্ষিণে কোন স্থানের কৌনিক দুরত্বকে অক্ষাংশ বলে।
অক্ষরেখার সাথে তাপমাত্রা, আবহাওয়া ও জলবায়ুর সম্পর্ক রয়েছে।
 মূল দ্রাঘিমা রেখা/ মূলমধ্যরেখা : ল-নের গ্রিনিচ মানমন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর দক্ষিণ বরাবর যে রেখা কল্পনা করা হয় তাকে মূল দ্রাঘিমা রেখা বা মূলমধ্য রেখা বলা হয়।
 দ্রাঘিমা রেখা: মূল দ্রাঘিমারেখার পূর্বে বা পশ্চিমে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর যে রেখা কল্পনা করা হয় তাকে দ্রাঘিমা রেখা বলা হয়।
দ্রাঘিমা রেখার সাথে সম্পর্ক সময়ের । ১ ডিগ্রী দ্রাঘিমা = ৪ মিনিট
 দ্রাঘিমাংশ: মূল দ্রাঘিমা রেখার পূর্বে বা পশ্চিমে কোন স্থানের কৌনিক দুরত্বকে দ্রাঘিমাংশ বলে।
 আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা: মূল দ্রাঘিমা রেখা থেকে ১৮০০ পূর্বে বা ১৮০০ পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর যে রেখা কল্পনা করা হয় তাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বলা হয়।

 বাংলাদেশের অবস্থান : ২০০৩৪’’ উত্তর অক্ষাংশ হতে ২৬০৩৮’’ উত্তর অক্ষাংশ। ৮৮০০১’’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ হতে ৯২০৪১’’ পুর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত।

My Preparations
 বাংলাদেশের চারদিক: পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে পশ্চিম বঙ্গ, আসাম, মেঘালয় পুর্বে আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম এবং মায়ানমার;
দক্ষিনে বঙ্গোপসাগর । বাংলাদেশের আয়তন ১৪৭৫৭০ বর্গকিলোমিটার বা ৫৫৫৯৯/৫৬৯৭৭ বর্গমাইল। বাংলাদেশের মোট রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল। অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল। ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫৩ কিমি/ ১.১৫ মাইল । বাংলাদেশের মোট সীমানা দৈর্ঘ্য ৫১৩৮ কিমি.  ভারতের সাথে সীমানা ৪১৫৬ কিমি. (৪১৪৪) (ভারত- বাংলাদেশ সীমানা রেখা র‌্যাডক্লিপ লাইন) মায়ানমারের সাথে সীমানা ২৭১ কিমি (২৮৩) এবং সমুদ্রতটের দৈর্ঘ্য ৭১১ কিমি. বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫ রাজ্যের সীমানা রয়েছে। বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি, ভারতের সাথে ৩০টি এবং মায়ানমারের সাথে ৩টি যথা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার।
♦বাংলাদেশের মধ্যে ভারতের ১১১টি ছিটমহল ছিল। অপরদিকে ভারতের কুচবিহার জেলায় বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ছিল। আঙ্গুরপোতা দ্রহগ্রাম, তিনবিঘা করিডোর-১৭৮ মিটার ও ৮৫ মিটার।
♦বাংলাদেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়, উপজেলা তেঁতুলিয়া, স্থান বাংলাবান্ধা।
♦বাংলাদেশের সর্বদক্ষিনের জেলা কক্সবাজার, উপজেলা টেকনাফ, স্থান সেন্টমার্টিন, (ছেঁড়াদ্বীপ)।
♦বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, উপজেলা শিবগঞ্জ, স্থান মনাকষা।
♦বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান, উপজেলা থানচি, স্থান আখাইন ঠং।
♦সবচেয়ে বড় জেলা—- রাঙ্গামাটি আয়তনে (৬১১৬)। ঢাকা জনসংখ্যায়                               ♦সবচেয়ে ছোট জেলা আয়তনে নারায়নগঞ্জ ৭০০ বর্গ কিমি. (মেহেরপুর ৭১৬ বর্গ কিমি.), বান্দরবান জনসংখ্যায়

 ৮টি বিভাগ: সিলেট ৪টি, চট্টগ্রাম-১১টি, বরিশাল-৬টি, খুলনা-১০টি, রাজশাহী-৮টি, রংপুর-৮টি, ঢাকা-১৩টি, ময়মনসিংহ-৪টি।

১। সিলেট বিভাগ: ৪টি জেলা:
 সিলেট: সুুরমা নদী, ১৮৫৪ সালে মালনিছড়ায় প্রথম চা চাষ শুরু হয়। পাদুয়া সীমান্তবর্তী স্থান। জাফলং ও বিছনাকান্দি পর্যটন কেন্দ্র পিনাইং নদীর তীরে। তামাবিল , শেওলা ও ভোলাগঞ্জ (২৪ তম সর্বশেষ) স্থলবন্দর। শাহজালাল ও শাহ পরানের মাজার……
 মৌলভীবাজর: মনু নদী, শ্রীমঙ্গল চা গবেষণা কেন্দ্র, হাকালুকি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হাওড়। বলিশিরা ভ্যালি, মাধবকুন্ডু ও হামহাম জলপ্রপাত। লাওয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। উইরেনিয়াম সমৃদ্ধ কুলাউড়া পর্বত….
 হবিগঞ্জ: বানিয়ারচং এশিয়ার বৃহত্তম গ্রাম, খোয়ায় নদী, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এনজিও ব্র্যাক এর প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদ। শাহ. এস. এম কিবরিয়া সাবেক অর্থমন্ত্রী। আজমিরিগঞ্জ সুরমা ও কুশিয়ারা মিলিত, বাল্লা স্থলবন্দর, …………..
 সুনামগঞ্জ: ছাতক সিমেন্ট কারখানা, টাঙ্গুয়ার হাওড় ইউসেস্কোর রামসার এরিয়া, হাসন রাজা ও এম এ জি ওসমাানি, শাহ আব্দুল করিম, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত………….https://mypreparations.com/

২। চট্টগ্রাম বিভাগ- ১১টি জেলা:
 চট্টগ্রাম: কর্ণফুলী নদী, সন্দ্বীপ, সীতাকুন্ডু পাহাড়, চন্দ্রনাথ মন্দির, পতেঙ্গাঁ সমুদ্র সৈকত, ফয়েজ ও মহামায়া লেক, বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার, বাংলাদেশ চা বোর্ড ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত (১৯৮৪ সালে পর্যন্ত ঢাকায় ছিল) , মেরিন একাডেমি ,বন গবেষণা ইনস্টিটিউট ……
 কক্সবাজার: নাফ ও বাঁকখালি নদী, পর্যটন জেলা, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, দৈর্ঘ্য ১৫৫/১২০ কিমি, হিমছড়ি ঝর্ণা, ইনানী বীচ, মহেশখালী পাহাড়ী দ্বীপ- মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, আদিনাথ মন্দির, কুতুবদিয়া বাতিঘর, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, সেন্টমার্টিন, টেকনাফ স্থলবন্দর মায়ানমারের সাথে একমাত্র স্থলবন্দর,সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট, শাহ পরীর দ্বীপ, কুতুপালং………
 বান্দরবান: বিজয়/তাজিং ডং (১২৩১) কেওকারাডং ১২৩০, চিম্বুক পাহাড়ের পাদদেশে মারমা উপজাতি বাস করে। মাতামুহুরি ও সাঙ্গু নদী, প্রান্তিক ও বগা লেক, ঋজুক জলপ্রপাত (রুমা), নীলাচল ও নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র, জাতীয় সংসদে ৩০০ নং আসন……………
 রাঙ্গামাটি: সবচেয়ে বড় জেলা ৬১১৬ বর্গ কিমি, কাপ্তাই লেক, ঝুলন্ত ব্রীজ, ১৯৬২ সালে জল বিদ্যুৎ, রাজবন বিহার, ভেঙ্গী ভ্যালি, সাজেক ভ্যালি, প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র বেতবুনিয়া১৯৭৫
 খাগড়াছড়ি: হালদা নদী উৎপত্তি-বাদনাতলী পাহাড়ে বাংলাদেশে উৎপন্ন একমাত্র নদী এবং কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন কেন্দ্র, হালদা ভ্যালি, আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, রামগড় স্থলবন্দর, রিঝং ঝর্ণা…………

বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি-এ তিনটি জেলাকে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বলে।

 ব্রাহ্মণবাড়িয়া: তিতাস নদী ও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস ক্ষেত্র, আখাউড়া ও কসবা স্থলবন্দর, অদ্বৈত মল্লবর্মণ (তিতাস একটি নদীর নাম) ও ওস্তাদ আলাউদ্দীন খা, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত …………..
 কুমিল্লা: পূর্বনাম ত্রিপুরা, ময়নামতি ও লালমাই পাহাড় ( আনন্দ বিহার), BARD  ১৯৫৯ সালে আখতার হামিদ খাঁন, গোমতী নদী, বিবির বাজার স্থলবন্দর, প্রথম শত ভাগ স্যানিটেশন, কমনওয়েলথ ওয়ার সিমিট্রি…………….
 ফেনী: নদীর নামে নাম, বিলোনিয়া স্থরবন্দর, জহির রায়হান, শহীদুল্লা কায়সার, সেলিম আল দ্বীন, স্যার AF Rahman, ঢাবি প্রথম মুসলিম ও উপমহাদেশের VC , মুহুরী নদী………
 নোয়াখালী: পূর্বনাম সুধারাম নিঝুম ও হাতিয়া দ্বীপ, গান্ধী আশ্রম (মহাত্মা ১৯৪৬ সালে), বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন…………….
 লক্ষীপুর: জাতীয় অধ্যাপক ও জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান কবির চৌধুরী, মোহাম্মদ উল্লাহ জাতীয় সংসদের প্রথম স্পীকার, মুনীর চৌধুরী নাট্যকার, আবুল আহসান সার্কের প্রথম মহাসচিব, আ. স. ম আব্দুর রব ছাত্রনেতা…………..
 চাঁদপুর: পদ্মা ও মেঘনা মিলিত হয়েছে, ইলিশ গবেষণা কেন্দ্র, নদী বন্দর, ডাকাতিয়া নদী, সওগাত পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন।

Share on

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − fourteen =