পদার্থ বিজ্ঞান এর তথ্য

সাধারণ বিজ্ঞান- পদার্থবিদ্যা  ( প্রথম অংশ )

পদার্থ বিজ্ঞান এর তথ্য ও সাধারণ জ্ঞান – বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি

০১. লােহা পানিতে ভাসেনা কিন্তু লৌহ নির্মিত জাহাজ পানিতে ভাসে কেন? 

– কোনাে বস্তু কোনাে তরল পদার্থে ডুববে না ভাসবে তা নির্ভর করে ঐ বস্তুর ওজন ও ঐ বস্তুর উপর ক্রিয়াশীল ঐ তরল পদার্থের ঊর্ধ্বাভিমুখী বল বা প্লবতার ওপর। একখণ্ড লােহা পানিতে ভাসে না কারণ লােহা খণ্ড দ্বারা অপসারিত পানির ওজন লােহা খণ্ডের ওজনের চেয়ে কম। কিন্তু লােহার তৈরি জাহাজ পানিতে ভাসে। কারণ জাহাজের তল পিটিয়ে বিস্তৃত  করা হয়। ফলে জাহাজ যে বিপুল আয়তনের পানি অপসারিত করে তার ওজন জাহাজের ওজনের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে জাহাজ পানিতে ভাসে। 

০২. সাধারণ ছাতার কাপড় কালাে ও ট্রাফিক পুলিশের ছাতা সাদা হয় কেন? 

– সাধারণ ছাতার কাপড় কালাে হয় কারণ কালাে জিনিসের তাপ বিকিরণ বা শােষণ করার ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। এজন্য সূর্যের তাপে ছাতার কালাে কাপড় গরম হওয়া মাত্র এটি থেকে দ্রুত তাপ বিকিরণ হয়ে যায়। ফলে কাপড় খুব বেশি গরম হতে পারে না। আর ট্রাফিক পুলিশের ছাতা সাদা হয় কারণ সাদা বস্তুর তাপ শােষণ করার ক্ষমতা কম। সূর্যের যে তাপ। ছাতার ওপর পড়ে তার বেশির ভাগই প্রতিফলিত হয়। তাই রােদে দাঁড়ানাে ট্রাফিক পুলিশের ছাতা খুব বেশি গরম হতে পারে না। 

০৩. মাটির কলসির পানি ঠাণ্ডা হয় কেন? 

– মাটির কলসির পানি ঠাণ্ডা হওয়ার জন্য মূলত বাষ্পীভবন (Evaporation) প্রক্রিয়া দায়ী। মাটির কলসির গায়ে অজস্র ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র আছে। ঐ ছিদ্রগুলাে দিয়ে পানি চোয়াতে থাকে এবং বাষ্পীভূত হতে থাকে। বাষ্পীভূত হওয়ার সময় কলসির পানি থেকে কিছু তাপ শােষিত হয় যার ফলে পানি ঠাণ্ডা থাকে। 

০৪. চলন্ত গাড়ি থেকে নামা নিরাপদ নয় কেন? 

চলন্ত অবস্থায় গাড়ির সংস্পর্শে থাকা যাত্রীর শরীর গতিজড়তা লাভ করে। চলন্ত অবস্থায় যাত্রী গাড়ি থেকে নামতে গেলে পা মাটির সংস্পর্শে আসার ফলে স্থিতি অবস্থার সৃষ্টি হয় কিন্তু শরীরের ঊর্ধ্বাংশে গতিজড়তার জন্য সামনের দিকে হেলে পড়ে। এর ফলে যাত্রী পড়ে গিয়ে মারাত্মকভাবে আহত হতে পারে।

০৫. একখণ্ড বরফ কিভাবে এক গ্লাস পানিকে ঠাণ্ডা করে? 

– গ্লাসের পানির মধ্যে একখণ্ড বরফ রাখলে ঐ বরফখণ্ডটি গ্লাসের পানি থেকে তাপ শােষণ করে তরল অবস্থায় রূপান্তরিত হয় এবং এভাবে তাপ শোষণের ফলে গ্লাসের পানির তাপমাত্রা কমে গিয়ে সমস্ত গ্লাসের পানি ঠাণ্ডা হয়। । 

০৬. গরম পানিতে পাতলা কাচের চেয়ে মােটা কাচের গ্লাসসহজে ফেটে যায় কেন? 

– কাচ তাপের কুপরিবাহী। মােটা কাচের গ্লাসে ফুটন্ত পানি ঢাললে গ্লাসের ভেতরের তাপ পুরু কাচের মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়ে বাহিরে যেতে পারে না। এতে করে ভেতরে কাঁচের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে গ্লাসের ভেতরের অংশ প্রসারিত হয় কিন্তু বাহিরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি না পাওয়ায় বাহিরের অংশ প্রসারিত হয় না। এই অসম প্রসারণের জন্য সৃষ্ট প্রসারণ বলের কারণে গ্লাস ফেটে যায়। কিন্তু পাতলা কাচের গ্লাসের ক্ষেত্রে ভেতরের ও বাইরের অংশের তাপমাত্রার তেমন পার্থক্য থাকে না। যার ফলে সহজে ফেটে যায় না। 

০৭. রেল লাইনে প্রতি ১০ মিটার অন্তর অন্তর জোড়ার মুখে সামান্য ফাক রাখা হয় কেন?

 – সূর্যের তাপে কিংবা যখন ট্রেন চলে তখন চাকার ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন তাপে রেল লাইন প্রসারিত হয়। তাই রেল লাইনের ১০ মিটার অন্তর অন্তর দুটি লাইনের সংযােগ স্থলে ফাঁক রাখা হয়, যাতে রেল লাইন প্রসারণের জন্য যথেষ্ট জায়গা পায়। এরূপ ফাকা না রাখলে এ প্রসারণের ফলে রেল লাইন বেঁকে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। 

০৮. একটি লােহার দণ্ডের একপ্রান্তে তাপ দিলে অন্যপ্রান্তে গরম হয় কিন্তু একটি কাঠের দণ্ডের একপ্রান্তে আগুন লাগলে অন্যপ্রান্তে গরম অনুভব হয় না কেন? 

– যে বস্তু যতাে বেশি তাপের সুপরিবাহী হবে সে বস্তু তত দ্রুত তাপ সঞ্চালন করতে পারবে। লােহা উত্তম তাপ পরিবাহী। সুতরাং লােহার একপ্রান্তে তাপ দিলে তা দ্রুত অপর প্রান্তে সঞ্চালিত হয়। যার ফলে অপর প্রান্তও গরম হয়। কিন্তু কাঠ কুপরিবাহী হওয়ায় একপ্রান্তে আগুন লাগলেও তাপ সঞ্চালিত হয়ে অপর প্রান্তে সহজে যেতে পারে না। তাই কাঠের অপর প্রান্তে গরম অনুভূত হয় না।

০৯. বন্দুক থেকে – গুলি ছোঁড়ার কে থেকে গুলি ছোঁড়া হলে বন্দুক পিছন দিকে ধাক্কা দেয় কেন? 

– ছোড়ার পূর্বে বন্দুক ও গুলি উভয়ের বেগ শূন্য থাকে, তখন তাদের এ শন্য। গুলি ছোড়ার পর সামনের দিকে গুলির কিছু ভরবেগ উৎপন্ন ভরবেগের নিত্যতার সূত্রানুযায়ী গুলি ছোড়ার আগের ভরবেগের সমষ্টি বের ভরবেগের সমষ্টির সমান হবে। সুতরাং গুলি ছােড়ার পরের ভরবেগের গটি সমান হতে হলে বন্দুকের গুলির সমান ও বিপরীতমুখী একটি ভরবেগ সষ্টি হয়। ফলে বন্দুককেও পিছনের দিকে সরে আসতে হয়।

১০.  হীরক উজ্জ্বল দেখায় কেন? 

—  হীরকের প্রতিসরাঙ্ক ২.৪ এবং সঙ্কট কোণ ২৪°। ক্ষুদ্র সঙ্কট কোণের জন্য হীরকের মধ্যে আপতিত আলােক রশ্মির বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটে। ফলে হীরক খুব উজ্জ্বল দেখায়।

পদার্থ বিজ্ঞান এর তথ্য ও সাধারণ জ্ঞান – বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি


পদার্থ বিজ্ঞান এর তথ্য ও সাধারণ জ্ঞান – বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি

১১. ভজা অবস্থায় বা ভিজা কাপড় দ্বারা বিদ্যুৎ প্রবাহিত তারের সাথে সংস্পর্শ ঘটলে প্রায়শই মৃত্যু ঘটে কেন? 

ভিজা কাপড় এবং মানবদেহ তড়িৎ পরিবাহী। সুতরাং ভিজা অবস্থায় বা ভিজা কাপড় দিয়ে বৈদ্যুতিক তার স্পর্শ করলে, তার থেকে তড়িৎ দেহের মধ্য দিয়ে | প্রবাহিত হয়। ফলে বিদ্যুতের শক্ লাগে। এই শক্ থেকে মৃত্যু ঘটতে পারে। 

২. আগুন নিভাননার সময় অগ্নি নির্বাপকগণ পালিশ করা পিতলের শিরস্ত্রাণ ব্যবহার করে কেন? 

– পালিশ করা পিতলের তল থেকে বিকিরিত তাপ প্রতিফলিত হয়ে ফিরে যায়। যার ফলে দমকল বাহিনীর লােকেরা আগুনের তাপ থেকে রক্ষা পায়। আর এ জন্যেই অগ্নি নির্বাপকগণ পালিশ করা পিতলের শিরস্ত্রান ব্যবহার করে। 

১৩.বােতল থেকে পানি ঢালার সময় গড়গড় শব্দ হয় কেন? 

– বােতলের ভিতর থেকে পানি বের হলে শূন্য জায়গা বাতাস দখল করে। কিন্তু বােতলের মুখ ছােট বলে একদিকে পানি বের হতে থাকে আর অন্যদিকে বাতাস ঢুকার জন্য অনবরত চেষ্টা করে, ফলে গড়গড় শব্দ উৎপন্ন হয়। | 

১৪.বেলুন উপরে ওঠে কেন?

 – হাওয়ায় ভর্তি একটি বেলুন হাওয়ায় ছেড়ে দিলে বেলুন বাইরের বাতাসের ওপর পেছনের দিকে একটি ক্রিয়ামূলক বল প্রয়ােগ করে। বাতাসও বেলুনের ওপর সমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়ামূলক বল প্রয়ােগ করে। ফলে বেলুনটি উপরে উঠতে থাকে। | 

১৫. আকাশ নীল দেখায় কেন? 

– সূর্যের আলাে সাত রঙের এক মিশ্রণ। এই রংগুলাে হলাে বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল। যখন সূর্যের আলাের সঙ্গে বায়ুর অণুসমূহের সংঘর্ষ হয় তখন নীল বর্ণের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে বেগুনি, নীল ও আসমানী রং সবচেয়ে বেশি বিক্ষিপ্ত হয়। অপরপক্ষে লাল আলাের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে লাল রং বিক্ষিপ্ত হয় সবচেয়ে কম। তাই আমরা ; যখন আকাশের দিকে তাকাই তখন ঐ বেগুনি, নীল ও আসমানি বর্ণের আলােগুলােই প্রধানত আমাদের চোখে এসে পড়ে। ঐ তিনটি রঙের মিলিত পাতা প্রায় নীল। আর এ কারণেই আকাশ আমাদের কাছে নীল বলে মনে হয়। 

১৬. প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয় কেন?

মন্নার জন্য দরকার তাপ ও চাপ। চাপ বেশি হলে কম তাপেও রান্না করা গম। প্রেসার কুকারের তাপে উৎপন্ন বাষ্প বেরিয়ে যেতে পারে না। ফলে পরের ভিতরের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হয়। ফলে একই :পে অন্যপাত্রের চেয়ে প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয়। 

১৭.কাপের চা পিরিচে ঢাললে তাড়াতাড়ি ঠাণ্ডা হয় কেন? 

ভাতাড়ি ঠাণ্ডা করার জন্য আমরা চা পিরিচে ঢেলে পান করে থাকি। চাগলায় অংশের বাম্পায়নের ফলে চা ঠাণ্ডা হয়ে থাকে। আর বাম্পায়নের প্রয়ােজনীয় সপ্ত তাপ পিরিচের চা থেকে গ্রহণ করে থাকে। তাই পানির। “অ হার যত বেশি হবে চা তত দ্রুত ঠাণ্ডা হবে। আবার বাম্পায়নের হার নির্ভর করে তরল পদাথের করে তরল পদার্থের মুক্ত তলের ক্ষেত্রফলের ওপর। পিরিচে রাখা চায়ের মুক্ত তলের ক্ষেত্রফল কাপে রাখা চায়ের মুক্ত তলের ক্ষেত্রফল অপেক্ষা বেশি। তাই কাপের চা পিরিচে ঢাললে চায়ের মুক্ত তলের ক্ষেত্রফল বৃদ্ধির কারণে বাম্পায়নের হার বৃদ্ধি পায় এবং চা দ্রুত ঠাণ্ডা হয়। 

১৮. হারিকেনের গরম চিমনির ওপর ঠাণ্ডা পানি পড়লে তা ফেটে যায় কেন?

 হারিকেনের গরম চিমনির ওপর ঠাণ্ডা পানি পড়লে তা ফেটে যায়। কারণ, বাইরে ঠাণ্ডা পানি পড়ার জন্য চিমনির কাচের বাইরের অংশ সংকুচিত হয় কিন্তু কাচ তাপের কুপরিবাহী বলে ভেতরে সংকুচিত হতে পারে না। ফলে সংকোচনের জন্য চিমনি ফেটে যায়। 

১৯. শীতপ্রধান দেশে পানির পাইপ ফেটে যায় কেন?

 – শীতপ্রধান দেশে যখন পানি জমে বরফ হয় তখন এর আয়তন বৃদ্ধির জন্য নানারকম অসুবিধা দেখা দেয়। পানির পাইপের ভেতরের পানি ঠাণ্ডায় বরফ হয়ে গেলে আয়তন বেড়ে যায়। ফলে পাইপের ওপর যে প্রচণ্ড চাপ পড়ে তাতে পাইপ ফেটে যায়। 

২০. উঁচু পাহাড়ের ওপর রান্না করা অসুবিধাজনক কেন? 

— পাহাড় বা পর্বতের ওপর বায়ুর চাপ কম থাকায় পানির স্ফুটনাঙ্ক কমে যায় অর্থাৎ কম তাপমাত্রায় পানি ফুটতে পারে। কিন্তু মাংস, মাছ, ডিম প্রভৃতি দ্রুত সিদ্ধ হয় না। এগুলাে সুসিদ্ধ হওয়ার জন্য যে তাপের প্রয়ােজন হয় পানি তার চেয়ে কম তাপমাত্রায় ফুটে বাষ্পীভূত হওয়ার জন্য মাছ, মাংস সেই পর্যাপ্ত তাপ পায় না। ফলে সুউচ্চ পাহাড় বা পর্বতের ওপর রান্না করা কষ্টকর হয়ে পড়ে।

পদার্থ বিজ্ঞান এর তথ্য ও সাধারণ জ্ঞান – বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি


পদার্থ বিজ্ঞান এর তথ্য ও সাধারণ জ্ঞান – বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি

২১. গরমকালে পুকুরের উপরকার পানি গরম এবং নিচের পানি ঠাণ্ডা থাকে আবার খুব ঠাণ্ডার দিনে উপরের পানি ঠাণ্ডা এবং নিচের পানি গরম থাকে কেন? 

গরমকালে পুকুরের উপরের পানি সূর্যের তাপ শােষণ করে গরম হয়। কিন্তু পানির তাপ পরিবাহকতু কম বলে উপরের তাপ নিচে যেতে পারে না, ফলে নিচের তাপমাত্রা বাড়ে না। উপরের পানি গরম হলেও নিচের পানি ঠাণ্ডা থাকে। আবার খুব ঠাণ্ডার দিনে ভূ-পৃষ্ঠের অন্যান্য সবকিছুর সাথে সাথে পুকুরের উপরের পানিও তাপ বিকিরণ করে। ফলে তাপমাত্রা কমে যায় এবং ঠাণ্ডা হয়। কিন্তু পানির তাপ পরিবাহকতু কম বলে নিচের পানির তাপমাত্রা বেশি থাকলেও নিচের তাপ উপরে আসতে পারে না। ফলে নিচের পানির তাপমাত্রা বেশিই থাকে এবং নিচের পানি গরম মনে হয়। 

২২. মরু অঞ্চলে দিনে তীব্র গরম বা রাতে তীব্র শীত অনুভূত হয় কেন?

–দিনের বেলা সূর্য তাপ বিকিরণ করে। আর পৃথিবী সে তাপ শােষণ করে ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয়। ভূপৃষ্ঠ যত বেশি উত্তপ্ত হবে তত বেশি গরম অনুভূত হবে। আর ভূপৃষ্ঠ তাপ বিকিরণ করে যত বেশি শীতল হবে তত বেশি শীত অনুভূত হবে। মরু অঞ্চলের বায়ু শুষ্ক থাকে। এই শুষ্ক বায়ু বিকিরণের জন্য স্বচ্ছ পদার্থ হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ শুষ্ক বায়ুর মধ্য দিয়ে তাপ সহজে বিকিরিত হতে পারে। মরু অঞ্চলে দিনের বেলা তাই শুষ্ক বায়ুর মধ্য দিয়ে সূর্য থেকে বিকীর্ণ তাপ সহজেই ভূপৃষ্ঠে পৌছায় এবং ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয়। তাই মরু অঞ্চলে দিনে তীব্র গরম অনুভূত হয়। আবার রাতের বেলায় ভূপৃষ্ঠ তাপ বিকিরণ করে। মরু অঞ্চলের শুষ্ক বায়ুর ভেতর দিয়ে এ বিকীর্ণ তাপ সহজেই বায়ুমণ্ডল ভেদ করে চলে যায় এবং ভূপৃষ্ঠ খুব শীতল হয়। এজন্য রাতের বেলা তীব্র শীত অনুভূত হয়। 

২৩. কম্বলে ঢেকে রাখলে মানুষের দেহ শীতের দিনে গরম থাকে, অথচ এক টকরা বরফ কম্বলে ঢেকে রাখলে গরমের দিনেও জমাট থাকে কেন? 

– কম্বল তাপের কুপরিবাহক। কারণ কম্বলের ফাকে ফাকে অসংখ্য ছিদ্র পথে বায়ু আবদ্ধ থাকে। বায়ু তাপের কুপরিবাহক বলে এই বায়ুস্তর তাপ সঞ্চালনে বাধা প্রদা করে। শীতের দিনে মানুষের দেহ কম্বলে ঢেকে রাখলে কম্বলের মধ্য দিয়ে মানুষের দেহের তাপ বাইরে যেতে পারে না। ফলে শরীর গরম থাকে। অপরপক্ষে গরমের দিনে বায়ুমণ্ডল থেকে তাপ গ্রহণ করে বরফ গলতে থাকে। কিন্তু কম্বলে ঢাকা থাকলে তাপের কুপরিবাহক বলে বাইরের তাপ কম্বল ভেদ করে বরফে আসতে পারে না। ফলে বরফ কোনাে তাপ গ্রহণ করতে পারে না। তাই এটি জমাটই থাকে। 

২৪. কাচের ঘর বা সবুজ বাড়ি সব সময় গরম থাকে কেন? 

– বেশির ভাগ বস্তুই কয়েকটি বিশেষ তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সাপেক্ষে তাপ স্বচ্ছ আবার অন্য ; তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সাপেক্ষে তাপরােধীও হতে পারে। কাচের মধ্য দিয়ে ক্ষুদ্র তরঙ্গ । দৈর্ঘ্যের তাপ সহজে চলে যেতে পারে কিন্তু দীর্ঘ তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের বিকীর্ণ তাপ : যেতে পারে না। কাচের এই ধর্মের উপর ভিত্তি করে সবুজ বাড়ি তৈরি করা ; হয়। এই সবুজ বাড়িতে গাছপালা, ফুল, মূল্যবান উদ্ভিদ ইত্যাদি কাচের ঘরের মধ্যে রাখা হয়। কারণ সূর্য থেকে নির্গত ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘের বিকীর্ণ তাপ কাচের মধ্য দিয়ে বাইরে যেতে পারে না। ফলে কাচের ঘরটি বেশ গরম থাকে এবং ভেতরে রাখা বস্তুদের প্রায় সব সময়ই প্রয়ােজনীয় তাপমাত্রায় রাখে। 

২৫. বাদুড় কিভাবে পথ চলে?

 – শব্দোত্তর তরঙ্গ সৃষ্টির মাধ্যমে বাদুড় পথ চলে থাকে। বাদুড় চলার সময় ক্রমাগত বিভিন্ন কম্পাঙ্কের শব্দোত্তর তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে বাদুড়ের কানে ফিরে আসে। শব্দোত্তর তরঙ্গ প্রতিধ্বনি শােনার মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান এবং প্রতিফলিত শব্দের প্রকৃতি থেকে বাদুড় সহজেই প্রতিবন্ধকের অবস্থান। ও আকৃতি সম্বন্ধে ধারণা করতে পারে। ফলে পথ চলার সময় বাদুড় সেই প্রতিবন্ধক পরিহার করে চলে। 

২৬. রেল স্টেশনের প্লাটফরমে দাঁড়ান অবস্থায় আগত ট্রেনের বাঁশি বাজানাে শুনলে শ্রুত শব্দের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় বলে মনে হয় কেন? 

একটি ট্রেন যখন হুইসল বা বাঁশি বাজাতে বাজাতে স্টেশনের দিকে আসে। তখন প্লাটফরমে দাঁড়ানাে ব্যক্তির কাছে হুইসেলের তীক্ষ্মতা ক্রমশ বৃদ্ধি পায় বলে মনে হয়। এর কারণ হচ্ছে, ট্রেন স্থির থাকলে যে অসংখ্য তরঙ্গ একটি নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য জুড়ে থাকত, ট্রেন স্টেশনের দিকে এগােনের ফলে সেই সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে উৎস এক সেকেন্ডে যতগুলাে তরঙ্গ উৎপন্ন করে শ্রোতার কানে এক সেকেন্ডে তার চেয়ে বেশি সংখ্যক তরঙ্গ আসে। কাজেই শব্দের তীব্রতা তীক্ষ্মতার আপত বৃদ্ধি ঘটে। 

২৭. রাস্তার বাঁকে ব্যাঙ্কিং কেন? 

গাড়ি বাঁকা পথে ঘােরার জন্য কিছু অভিকেন্দ্র বলের প্রয়ােজন হয়। এ অভিকেন্দ্র বলের অভাবে গাড়ি বাঁকা পথের স্পর্শক বরাবর চলে যায়, বা কখনও কখনও উল্টে যায়। তাই বাঁক নেয়ার সময় চাকা ও রাস্তার মধ্যবর্তী ঘর্ষণ বল প্রয়ােজনীয় অভিকেন্দ্র বল সরবরাহ করে। এ ঘর্ষণ বল বা অভিকেন্দ্র বল, যা এখানে পাওয়া যায় তার মান কম হওয়ায় গাড়ী উচ্চ বেগে বাঁক নিতে পারে না। এ কারণেই অভিকেন্দ্র বলের মানবৃদ্ধির লক্ষ্যে বাকের মুখে রাস্তার তল অনুভূমিক তলে হেলিয়ে চালাতে হয়। ফলে রাস্তার। বাইরের দিক বা রেল লাইন হলে বাইরের রেল ভিতরটির থেকে উঁচু হয়। একেই ব্যাঙ্কিং করা বলা হয়। অনুরূপ কারণে গােলাকার বা উপবৃত্তকার | রেসিং ট্র্যাক ও ব্যাঙ্কিং করা হয়। 

২৮. দুধ ও পানি ফুটাতে গেলে কোনটা আগে ফুটবে এবং কেন?

 – দুধ ও পানির মধ্যে দুধের তাপ পরিবাহিতা বেশি। পানি অপরিবাহী। ফলে একই সময় ফুটাতে গেলে দেখা যাবে পানির বেশ খানেকটা আগেই দুধ ফুটছে।। 

২৯. পানির গ্লাসে বরফ রাখলে গ্লাসের চারপাশে ঘােলাটে দেখায় কেন? 

– গ্রাসে বরফ রাখলে গ্লাসের পানি এবং কাচের উষ্ণতা দ্রুত নেমে আসে। | গ্লাসের চারপাশের বায়ুর জুলীয়বাষ্প এর সংস্পর্শে এসে জমে যায়। ফলে এর গায়ে জমা জলীয় বিন্দুগুলাে কাচকে ঘােলাটে করে তােলে। 

৩০. গরমের দিনে পাখার নিচে বসা আরামদায়ক কেন?

 – গরমের দিনে আমাদের শরীর থেকে সব সময় ঘাম হিসেবে পানি বের হয়ে থাকে। বাইরের বাতাসেও জলীয় বাষ্প থাকার দরুন সহজে এ ঘাম শুকায় না। আমরা অস্থির হই। পাখার বাতাসের ঝাপটা আমাদের গায়ে লাগে বলে এ ঘাম বেশি পরিমাণের বাতাসের সঙ্গে তাড়াতাড়ি মিশে যায়। আর এ ঘাম বাষ্পীভবনের প্রয়ােজনীয় তাপ আমাদের দেহ থেকে গ্রহণ করে বলে আমরা ঠাণ্ডা বােধ করি।

পদার্থ বিজ্ঞান এর তথ্য ও সাধারণ জ্ঞান – বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি


 ৩১.রান্নার জন্যে মাটির হাঁড়ির চেয়ে অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি  সর্বত্র ব্যবহৃত হয় কেন? 

– অ্যালুমিনিয়াম তাপের  সুপরিবাহী । চুলার আগুনের উপর বসানাের সথে সাথে তাপ পাতিলের বস্তুতে সঞ্চারিত হয়। এ তাপ বস্তুকে সিদ্ধ করতে শুরু রান্নার কাজ তাড়াতাড়ি হয়। মৃৎপাত্র তাপের কুপরিবাহী। তাই পান। করে ভেতরের বস্তুতে পৌঁছতে অনেক তাপ অপচয় হয় বলে রান্নায় দেরি হয়। 

৩২. নারিকেল তেল শীতকালে সব সময় জমে থাকে কেন? 

– শীতকালে বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা কম থাকে। নারিকেল তেলের উষ্ণুতা, এর নিচে নামলে এর ঘনীভবন হয়। ফলে এটা জমে কঠিন হয়ে যায়। 

৩৩. চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে যাত্রীরা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে কেন? 

– চলন্ত বাস হঠাৎ ব্রেক করলে গতিজড়তার কারণে যাত্রীরা সামনের দিকে বন পড়ে। চলন্ত অবস্থায় বাসের সাথে যাত্রীও একই গতিপ্রাপ্ত হয়। কিন্তু থেমে গেলে বাসের সাথে সাথে যাত্রীর শরীরের নিচের অংশ স্থির হয় কিন্তু শরীরের ওপরের অংশ গতিজড়তার জন্য সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। 

৩৪. বাঁকা পথে অতি দ্রুত গতিশীল গাড়ি উল্টে যায় কেন? ব্যাখ্যা করুন। 

– বাঁকা পথে গতিশীল যে কোনাে গাড়ির ওপর সর্বদা একটি কেন্দ্র বিমুখী বলের সৃষ্টি হয়। এ বলকে প্রশমিত করার জন্য একটি সমমানের কেন্দ্রমুখী বলের প্রয়ােজন হয় নতুবা গাড়ি উল্টে যেতে পারে। বক্রপথে রাস্তা ও গাড়ির চাকার ঘর্ষণের ফলে এ কেন্দ্রমুখী বলের সৃষ্টি হয়ে থাকে। কিন্তু দ্রুত গাড়ি চালাতে হলে যে পরিমাণ কেন্দ্রমুখী বলের প্রয়ােজন হয়, রাস্তা ও চাকার ঘর্ষণে সৃষ্ট কেন্দ্রমুখী বল তার চেয়ে কম হয়। ফলে গাড়ি উল্টে যায়।

৩৫. লিফটে নামার সময় ওজন কমে যায় কেন?

 লিফটে নিচের দিকে নামার সময় লােকের ওজন নিচের দিকে ক্রিয়া করে। অপরদিকে লিফটের প্রতিক্রিয়া বল ওপরের দিকে ক্রিয়া করে। কিন্তু নিচে। নামার সময় লিফটের প্রতিক্রিয়া বল কমে যায়। প্রতিক্রিয়া বল কমে। যাওয়ার কারণে লিফটে নামার সময় ওজন কমে যায় বলে মনে হয়। উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া বল, R = m (g-f)। যদি g = f হয় অর্থাৎ লিফটটি যদি মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ-এর সমান ত্বরণে নিচে নামতে থাকে তাহলে লােকটির কোনাে ওজন নেই বলে মনে হবে। 

৩৬. নৌকা থেকে লাফ দিলে নৌকা পিছন দিকে ছুটে যায় কেন? 

– নৌকা থেকে নামার সময় যদি কোনাে আরােহী লাফ দেয় তখন নৌকা ও আরােহীর ভরবেগের পরিবর্তন ঘটে। ভরবেগের এই পরিবর্তন সমান কিন্তু বিপরীতমুখী একে বলা হয় ভরবেগের সংরক্ষণ নীতি। ভরবেগের এই সংরক্ষণ নীতির কারণেই লাফ দেয়ার সময় নৌকা পিছনের দিকে ছুটে যায়। 

৩৭.বরফ পানিতে ভাসে কেন? 

পানি যখন বরফে পরিণত হয় তখন এর আয়তন বেড়ে যায়। ১১ একক আয়তনের পানি 0° সে. তাপমাত্রায় ১২ একক আয়তনের বরফে পরিণত হয়। কিন্তু ভর একই থাকে। এর ফলে বরফের ঘনত্ব পানির ঘনত্বের চেয়ে কম হয়। অর্থাৎ পানির। তুলনায় বরফ হালকা হয়। ফলে বরফ পানিতে ভাসে। একই কারণে হিমশৈল (Iceberg) সমুদ্রের পানিতে ভাসে। বরফকে পানিতে ছেড়ে দিলে এর ১/১২ অংশ। পানির ওপরে থাকে এবং ১১/১২ অংশ পানির নিচে থাকে।

পদার্থ বিজ্ঞান এর তথ্য ও সাধারণ জ্ঞান – বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি

Free Exam দিতে ক্লিক করুন

Ten Minute School

Share on

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 4 =